যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমার খবরে বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে পণ্যটির। কুর্দিস্তান, ভেনিজুয়েলা ও রাশিয়ার রফতানি ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকটের শঙ্কাও দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি বেড়েছে ৪০ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৮ ডলার ৩ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি মূল্য ৩৮ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ ডলার ৭৯ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় দরবৃদ্ধির হার দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের দিন ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা বলেন, ‘বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আবারো পূর্ব ইউরোপে নিবদ্ধ হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, এমন আশঙ্কায় জ্বালানি পণ্যটির বাজারে দাম বেড়েছে।’
তিনি আরো জানান, কুর্দিস্তান থেকে জ্বালানি তেল রফতানি পুনরায় শুরুর চুক্তি আটকে আছে। এর সঙ্গে ভেনিজুয়েলা থেকেও মার্কিন অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেভরনের রফতানি কমেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, কুর্দিস্তানের ইরাক অংশ থেকে তুরস্কে পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহ হওয়ার কথা থাকলেও তা বন্ধ আছে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এতে রাশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের নির্দিষ্ট মানের জোগান কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা।
একই সময়ে ভূরাজনীতিতেও নতুন মোড় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, ‘ইউক্রেন রাশিয়ার দখল করা সব অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এর আগে চলতি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও গ্যাস থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিল।’
ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ বলেছেন, ‘আমাদের জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন কোনো কঠোর বিধিনিষেধ আসবে না। চীনে রফতানি অব্যাহত থাকবে। তেহরান ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আলোচনায় জাতিসংঘের পুরনো নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনা ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।’
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসোলিন মজুদ কমেছে। তবে ডিজেল, হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট মজুদ বেড়েছে। সরকারি জ্বালানি তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি। রয়টার্সের এক জরিপে অংশ নেয়া আটজন বিশ্লেষক ধারণা দিয়েছেন, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসোলিন মজুদ বরং বেড়েছে। তবে ডিস্টিলেট মজুদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে বলেছে, চলতি বছর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ দ্রুত বাড়তে পারে। যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে জ্বালানি পণ্যটির উদ্বৃত্ত আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।